কিশোরগঞ্জে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে রমরমা মাদক ব্যবসা
কিশোরগঞ্জ সদর প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল পুরাতন রাউতের বাজার এলাকায় অবস্থিত সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি একজন নিরীহ ব্যক্তিকে প্রায় ১০ মাসের বেশি সময় জেল খাটতেও হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়ন প্রকল্পের ৫ নম্বর ঘরের বাসিন্দা মোছা. মমতার ঘরকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে মাদক বেচাকেনা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। এতে এলাকার যুবসমাজ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং সামাজিক পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার সামাজিকভাবে সালিশের উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান তারা।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের ৫ নম্বর ঘরটি তার মায়ের নামে বরাদ্দ ছিল। মা মারা যাওয়ার পর তার মেয়ে মমতা সেখানে বসবাস করছেন। তবে তাদের দাবি, মমতার স্বামীর বাড়িতে জায়গা-সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরটি দখল করে রেখেছেন। তাদের অভিযোগ, ওই ঘর থেকেই মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে।
মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরুজ মিয়া বলেন, মমতা এই এলাকার মেয়ে। তার স্বামীর সঙ্গে কয়েকবার পারিবারিক ঝগড়া হয়েছে। এলাকাবাসী হিসেবে আমরা চেষ্টা করেছি, সে যেন স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সংসার করে। কিন্তু সে মায়ের রেখে যাওয়া ঘরেই থাকতে চায়। এখান থেকেই মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালায়। কিছু বললেই মামলার হুমকি দেয়।
তিনি আরও জানান, শতাধিক এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান , সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নিরীহ মানুষ। ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল মমতার মেয়ে রুনা আক্তার আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। অথচ সেদিন রাতে আমি নিজ ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলাম। আনুমানিক রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। প্রায় ১০ মাস ৭ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে বিভিন্ন তদন্ত ও মেডিক্যাল রিপোর্টে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, এসব ঘটনার পেছনে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়নের বাইরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধন রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আশ্রয়ন প্রকল্পের ৫ নম্বর ঘরের বাসিন্দা মোছা. মমতা বলেন, আমার মেয়ে রুনা আক্তার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। রাতের অন্ধকারে সাইকুল ও আরেকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের শিকার হওয়ায় আমরা মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরমান হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মহিলাটি বিভিন্ন ভবে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় মামলা করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন রয়েছে। তবে সাইকুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা ছিল মিথ্যা ও হয়রানি।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমরুল হাসান মারুফ বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরসহ একটি অভিযোগ পেয়েছি। আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরটি যার নামে বরাদ্দ ছিল তিনি মারা গেছেন। বর্তমানে তার মেয়ে সেখানে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি দেখা যায় তিনি ঘরটির বৈধ প্রাপ্য নন, তাহলে বরাদ্দ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য বিষয়টি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে জানানো হবে।
